মাউশি মহপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেছেন, ইএফটিতে বেতন-বোনাস নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। আমাদের কাজের দোষ ত্রুটি ধরতে সবাই ব্যস্ত। একটু ধৈর্য ধরুন, আমরা সব আপডেট করবো এবং সামনে অচিরেই সব ভোগান্তির শেষ হবে।
মাউশি ডিজির নিকট সবিনয়ে জানতে চাই যে, সেই সামনের দিন কোনদিন আসবে। শুধু আজ কাল পরশু করে করে মাসের পর মাস শিক্ষকদের ভোগান্তি আপনারা বাড়িয়ে চলেছেন। আপনারা পরিপূর্ণ প্রস্তুতি না নিয়ে কেন ইএফটি বাস্তবায়নে হাত দিলেন। হত আরও দুইমাস দেরি কিন্তু শিক্ষক ও কর্মচারীদের তো এত ভোগান্তি পোহাতে হত না।
আরও পড়ুন…..বেতন ও বোনাস উত্তোলন ও মার্চের বেতনের সর্বশেষ অবস্থা।
শুক্রবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসব কথা বলেন তিনি।মাউশি মহাপরিচালক বলেন, ‘ডিসেম্বর-২৪, জানুয়ারি-২৫, ফেব্রুয়ারি-২৫ কোনো মাসের এমপিও-র ইএফটি বন্ধ ছিল না। ত্রুটিপূর্ণগুলো যান্ত্রিকভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ক্রমাগত তাগিদ এবং সংশোধন করে দেয়া হচ্ছিল ইএমআইএস সেল থেকে। বেতনের তাড়া যেমন ছিল, ঠিক তেমনটি নিজেদের তথ্য সংশোধনের তাগাদা নোটিশ সত্ত্বেও তা সংশোধনের গরজ দেখাইনি। দায় চাপিয়েছি কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে।
মাননীয় ডিজি মহোদয় আপনি আপনার মতো ব্যাখ্যা দাঁড় করালেই যে আমাদের আপনার ব্যাখ্যা সহজ ভাবে মেনে নিতে হবে তা তো নয়। যদিও আপনাদের বিপক্ষে আমাদের করার তেমন কিছু নাই তা আপনারা জানেন ও বুঝেন বলেই আপনারা আপনাদের ইচ্ছামত চলতে থাকেন। যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাহিদার কোন দাম বা মুল্য কোনদিনই আপনাদের নিকট নেই। মাননীয় ডিজি মহোদয় আপনার নিয়ন্ত্রণাধিন প্রতিষ্ঠান ইআইএমএসসেলের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে যে বেতন প্রদানের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে সেটা কিন্তু এখন অনেকটা পানির মত পরিস্কার। তাই বলব দায়িত্বপূর্ণ জায়গ আসীন থেকে দায়িত্ব এড়ানো সাফাইমুলক কথা বার্তা বললে সকলে কিন্তু আপনার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আপনি সর্বশেষ যা বলেছেন তা হলো অনেক শ্রমে যাবতীয় কাজ আপডেট করা হয়েছে। মাননীয় ডিজি মহোদয় তথ্য কি প্রতি মাসে বা ১৫ দিন পরপর আপডেট করতে হয়। প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারী হয় নাতো। তথ্য আপডেট যদি প্রতি মাসে নতুন নতুন করে আপডেট দিতে হয় তাহলে ধরে নিতে হবে আপনাদের কাজের ধরন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছৈ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মোট এমপিওভুক্ত জনবল ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮। ওই মাসে এমপিও ছাড় হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৩ জনের। অবশিষ্ট ১০ হাজার ১৭০ নানা ত্রুটির কারণে দেয়া যায়নি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মোট এমপিওভুক্ত জনবল ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ১৩২। ওই মাসে এমপিও ছাড় হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২৭১ জনের। অবশিষ্ট ৮ হাজার ৯২৬ জনের তথ্য সংশোধন চেষ্টা ছিল, কিন্তু পুরো তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে আসেনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোট এমপিওভুক্ত জনবল ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫। ওই মাসে এমপিও ছাড় হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৩৫০ জনের। অবশিষ্ট ৮ হাজার ৩৮০ জনের তথ্য সংশোধন চেষ্টা ছিল, কিন্তু পুরো তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে আসেনি।
মার্চে মোট এমপিওভুক্ত জনবল ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৬। ওই মাসে এমপিও ছাড় হয়েছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬০২ জনের। অবশিষ্ট ৯ হাজার ৮৪৯ জনের তথ্য সংশোধন চেষ্টা ছিল, কিন্তু পুরো তথ্য মাঠ পর্যায় থেকে আসেনি।
সংখ্যা পার্থক্য কেন?
নতুন এমপিওভুক্তি এবং মৃত, বরখাস্ত, অবসরগ্রহণের কারণে সংখ্যা পরিবর্তন হয়। এ তথ্যগুলো যাচাইয়ের পর যুক্ত ও বিযুক্ত হয়। সকল ক্ষেত্রেই মোটামুটি ৮-৯ হাজার শিক্ষকের তথ্য আপডেট হচ্ছে। বাদ থাকছেন তারাই যারা যেকোনো কারণে গুরুতর তথ্যগত অসম্পূর্ণতায় আছেন বা মৃত, বা অবসরপ্রাপ্ত বা বরখাস্ত বা সরকারিকৃত হয়েছেন কিন্ত মাঠ পর্যায় থেকে ইএমআইএস সেলে সংশোধিত তথ্য দেননি। তাগাদপত্র এখনও অব্যাহত আছে।
মাউশি ডিজি জানান, এমপিও/ ইএফটি বা বেতন বোনাস ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। একটু ধৈর্য ধরুন, আমরা সব আপডেট করবো এবং সামনে অচিরেই সব ভোগান্তির শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। আশা রাখি সেই দিন যত দ্রুত আসবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। তবে দ্রুততার সহিত ও আন্তরিকতার সহিত যদি করা যায় তাহলে খুব বেশি দিন দেরি হওয়ার কথা নয়।
প্রতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের ডাটা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের থেকে একটি ফর্ম পাঠানো হয়। প্রতিষ্ঠান থেকে প্রধান শিক্ষক তা পুরণ করে পাঠিয়ে দেয়। তথ্য আপডেট সংগ্রহ অযথা এক্ষেত্রে । একজন পিয়নের সবকিছু ওকে থাকার পরেও বেতন নাই। ঈদের আগে হঠাৎ ৬ষ্ট লটে বেতন ! এতগুলি লট গেল অবশেষে ৬ষ্ট লড়ে কেন? সমস্যা তাহলে কার?
সম্পাদক
এমপিও ইএফটি সংশোধনের সময় গত ২০/০৩/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে প্রতিষ্ঠান হতে অনলাইন আবেদনের সময় সীমা শেষ হয়েছে- উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক অগ্রায়ণের কাজ ও আজ শেষ হতে চলেছে- আমি যে জানবার এই লেখা তা হচ্ছে উপজেলা শিক্ষা অফিস হতে ফাইল বেক করা হয়েছে। পুণরায় ফাইল সংশোধন করে আবারও পাঠাতে হবে এখন কথা হচ্ছে যেহেতু জোড় মাসের ৬ তারিখের মধ্যে প্রতিষ্ঠান হতে উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হয় সেহেতু
এ ক্ষেত্রে আমি কি পাঠাতে পারব কিনা?দয়া করে জানাবেন।