এদেশের ৯৭ থেকে ৯৮ ভাগ ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দানের কাজে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যস্ত থাকি। হ্যাঁ বলতে পারেন কখনও আমরা সফল হই কখনও আমরা সফল হই না। কিন্তু পরিশ্রম তো করি। তাহলে কেন আমাদের এভাবে প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হতে হবে। আমাদের পরিশ্রম এদেশের সরকারের বা মাউশির যদি পছন্দ না হয় তাহলে তো আমাদের নিদিষ্ট কারণ দেখিয়ে বিদায় বলে দিলেই তো পারে। কিন্তু এভাবে দিনের দিনের পর দিন বৈষম্যমুলক আচরণ, নিপীড়ন মুলক ব্যবস্থা তো মেনে নেওয়া যায় না।
মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকদের তথ্যগত ভুলের কারণে বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে তাদের চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ব্যাংকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাউশির চেষ্টা
কেন আমাদের বেতন ও উৎসব ভাতার বিষয়ে মাউশির প্রধান কর্মকর্তা দায় সার মুলক কথাবার্তা বলে তার বিরুদ্ধে আমাদের দেশের বর্তমান সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বর্তমান সরকার বৈষম্য নিরসনের বার্তা নিয়ে এদেশের জনগণের আশা ভরসার প্রতীক হয়ে এসেছে তবে কেন এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত এমন বৈষম্যের শিকার হবে।
আরও পড়ুন…..দায় এড়ানো কথা বললেন মাউশির ডিজি।
১২ গার্মেন্টস মালিকের দেশ ত্যাগের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শ্রম উপদেষ্টা কারণ তারা শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন বোনাস পরিশোধ করেনি। আমি কাউকে ছোট বা কাউকে বড় করার উদ্দেশ্য উদাহারণটা এখানে দাঁড় করায়নি। সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ও বোনাসের কারসাজির বিরুদ্ধে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কেন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। কেন আমাদের প্যারেন্ট সংগঠন মাউশর ডিজি একেক সময় একেক ধরনের বিভ্রান্ত্রি মুলক কথা বার্তা বলার পরও তার বিরুদ্ধে কোন দায়িত্বে অবহেলার জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
”মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা ঈদের আগে মার্চের বেতন পাচ্ছেন, অথচ স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। বেতন নিয়ে বিড়ম্বনা কবে কমবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান বলেন, ‘চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন অনলাইনে দেওয়া খুব সহজ বিষয় না। অনেকের তথ্যগত ভুল রয়েছে। তবুও মানবিক বিবেচনায় তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। নতুন একটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে নানা সমস্যা হয়। সব সমস্যা সমাধান করে বেতন দেওয়ার কাজ চলছে।’
মাউশি ডিজির মুখ নিশ্রিত বয়ান
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদনও দিয়েছে। বাকি কাজ অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকের। তাদের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা বক্তব্য দিতে পারি না। কবে ব্যাংকে টাকা পাঠানো হবে সেটি চিফ অ্যাকাউন্টস অফিস ভালো বলতে পারবে।”
মাউশি থেকে সকল সময় একটি কথা বলা হয় তা হলো আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি আর তার কয়েকদিন পর বলে বেতন প্রদান করতে টেকনিক্যাল ইস্যু তৈরী হয়েছে। তাই সময় মতো বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে ধোকাবাজি ধোকাবাজি খেলা মাউশি আর কতদিন খেলবে আর আমাদের দেশের সরকার বা আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা তা চেয়ে চেয়ে দেখবেন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না।
মাননীয় উপদেষ্টা আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা আপনার বা আপনাদের নিকট কি দান বা ফ্রি কোন সুযোগ সুবিধা দাবি করছি। যদি তা না করে থাকি তাহলে কেন প্রতিনিয়ত আমাদের বেতন ভাতা পরিশোধ করার সময় মাউশির এমন টালবাহানার শিকার হতে হবে। মাউশির কর্মকর্তা কর্মচারীরা কেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মত সকল সময় অবহেলার দৃষ্টিতে দেখবে।
আরও পড়ুন….২৫ থেকে ২৭ এই দুই দিন টাকা কোথায় থাকবে?
পরিশেষে বলব মাননীয় উপদেষ্টা আপনি বা আপনারা বৈষম্য নিরসনের স্লোগান নিয়ে এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষের আশা ভরসার প্রতীক হয়ে এসেছেন। তাই আপনার বা আপনারে নিকট এদেশের সকল মানুষের সকল পেশাজীবির চাওয়া পাওয়ার আশা অনেক বেশি। তাই আমি বা আমরা আপনাদের নিকট আশা করি যে, এসমস্ত কুচক্রী মহলের কুচক্রী সিদ্ধান্ত যেন আর বাস্তবায়ন করতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন আশা রাখি। মাউশির গোপন সিন্ডিকেট ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই আশা রাখি।
Leave a Reply