এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বৈষম্য নিরসনের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ইএফটি। কিন্তু এর ফলে যে, এই পরিমাণ মুল্য পরিশোধ করতে হবে তা কি আমরা জানতাম। আমরা কি তখন জানতাম যে, ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৫ জন শিক্ষক কর্মচারীর ইএফটির বিনিময়ে ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারীকে আজ চার মাস থেকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। আমরা কি জানতাম তাদের স্ত্রী সন্তানদের ঈদের আনন্দ মলিন করে আমার স্ত্রী সন্তানদের ঈদের আন্দন উপভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন…..ইএফটির জটিলতা, নাকি আমলাদের চাতুরতা?
মাউশি থেকে কিন্তু এর আগে জানানো হয়েছিল যে, যে সকল শিক্ষক কর্মচারী ৫ম ধাপে ইএফটির আওতাভুক্ত হবে না। তাদের বেতন প্রয়োজন হলে পূর্বের অ্যানালগ সিষ্টেমে হলেও ঈদের আগে প্রেরণ করা হবে। কিন্তু কোথায় মাউশির সেই আশাব্যঞ্জক কথা। কোথায় গেল মাউশির সেই ছেলেভুলানো কথা। মাউশিতে যারা চাকুরী করে, মাউশিতে যে সমস্ত মানুষ দায়িত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছে তাদের কি পরিবার নাই, তাদের কি পরিবারে ছোট কোন বাবু নেই যে কিনা তার বাবাকে বলছে যে বাবা আমাদের ঈদের পোশাক কোন দিন কিনে দিবে। পৃথিবীতে সেই বাবাই সবচেয়ে বেশি অসহায় যে কিনা এই উৎসবের দিনে তার সন্তানের নূর্ণ্যতম চাহিদাটুকু পুরণ করতে পারবে না।
আমরা কি করে এত নির্দয় হতে পারি? শুধু মাত্র মাউশির কতিপয় কর্মকর্তা ব্যাক্তিগত স্বার্থ হানি ও ইগো সমস্যার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই ইএফটি জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অনেকের অভিমত।
আরও পড়ুন….ইএফটির ফলে লাভ কি হলো?
মাউশি তো জানে যে, এই ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারীদের ঈদের আগে ইএফটির আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে না। তাহলে কি মাউশির উচিত ছিল না যে, অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর বেতন কিভাবে ঈদের আগে প্রেরণ করা যায় তার জন্য কাজ করা। এটা কি মাউশির মানবিকতা মধ্যে পড়ে না। মাউশি তো আমাদের প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান এত নির্দয় এত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কিভাবে করে। আমার এই প্রশ্ন মাউশি ও সমগ্র এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে রইল।
পরিশেষে যে কথা বলব তা হলো এখনও সময় আছে, এই ১৬ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর প্রতি মানবিক দিক বিচার করে হলেও তাদের বেতন ভাতার ঈদের পূর্বের পূর্বের নিয়মে হলেও তাদের ব্যাংক হিসাবে প্রেরণের ব্যবস্থা করুন। হ্যাঁ তাদের দোষ ত্রুটি অপরাধ না ঈদের পর বিচার করা যাবে। তারা তো আর এ দেশ থেকে আমাদের বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের মত পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে না বা যাবে না এটুকু নিশ্চিত থাকেন।
Leave a Reply