আমার এই শিরোনাম আমি কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে নয় বরং তারা যে সত্যি সত্যি বৈষম্যের শিকার তা পরিস্কার করার জন্য দেওয়া।
একটু খেয়াল করে দেখেন প্রতি বৎসরই যখন ঈদ আসে গার্মেন্টেসের কর্মীদের বেতন বোনাস দেওয়ার সময় হয় তখন অধিকাংশ গার্মেন্টেস কর্মীরা সংবাদের শিরোনাম হন যে, তারা তাদের বেতন বোনাসের টাকা ঠিক মত পাবে কিনা। কারণ অধিকাংশ গার্মেন্টেস মালিকরা তখন তাদের নানা অজুহাত দেখানো শুরু করে। অথচ তাদের রক্ত মাংস এক করা টাকা দিয়ে মালিকরা ঠিক বউ সন্তানদের ঈদ উৎযাপন করতে বিদেশে পাঠানোর সময় টাকার ঘাটতি থাকে না। ঘাটতি হয় শ্রমিকদের বেতন বোনাস দেওয়ার সময়।
ঠিক তেমনি প্রতি বছর বা প্রতিমাসে বেতন বা বোনাস দেওয়ার সময় যখন হয় এমপিভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের তখনই শুরু হয় মাউশির টালবাহানা এখন নয় তখন এই সপ্তাহ নয় পরের সপ্তাহ। এই সকল টালবাহানা করতে করতে অধিকাংশ সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বা বোনাস হয় ঈদের পর।
ভাল করে বিষয়টি ভেবে দেখেন এদেশের গার্মেন্টেসের কর্মীরা দিন রাত পরিশ্রম করে এদেশের রপ্তানি কার্যক্রম চালু রেখেছে। ফলে কি হচ্ছে দেশের বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হচ্ছে পাশাপাশি বৈদিশিক মুদ্রা অর্জন হচ্ছে। আর সেই বৈদিশিক মুদ্রা এদেশের কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী বিদেশে পাচার করছে তাদের আরাম আয়েশের জন্য। আর ঈদের সময় আসলে সেই কর্মীদের বেতন বোনাস দেওয়ার সময় মালিক পক্ষের টাকা থাকে না। সরকার ঋণ দিলে অথবা প্রণোদণা দিলে তবেই মিলে তাদের শ্রমের দাম।
ঠিক তেমনি এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা দেশের ৯৭-৯৮% শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করে দেশকে সমৃদ্ধ করছে অথচ তাদের বেতন বোনাস দেওয়ার সময় মাউশির টালবাহানার শেষ নেই এবং এই সমস্যা যে আজ নতুন তা কিন্তু নয়। এবার না হয় ইএফটির বেড়াজাল আছে অন্যান্যবার তো আর তা ছিল না। তাহলে অন্যান্যবার একই সমস্যার সম্মুখীন আমরা কেন হই। বলতে পারেন? বলতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন বোনাস কোনদিন সঠিক সময়ে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট পৌছেছে।
একজন শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষ কদের আন্দোলন করা দেখে বলেছিল যে, না পোষালে অন্য পেশা বেছে নিতে। এই কথা কি শুধু শিক্ষকদের বেলায় প্রযোজ্য। মাউশির কর্মকর্তা কর্মচারীরা তো দিনের পর দিন শিক্ষক বেতন ভাতা, বোনাস সময়মতো দিতে পারে না তাহলে তারাও তো ব্যার্থ তাহলে তারা কেন? তাদের স্বপদে আজও বহাল থাকবে তাদের কেন তাদের ব্যর্থতার দায়ে বরখাস্থ হবে না। এই কথার উত্তর ঐ উপদেষ্টার নিকট চাওয়া কি খুব বেশি হবে।
আমাদের দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চিরজীবনের। এদেশের সকল ভাল কাজগুলো এদেশের আমলারা সকল সময় কিভাবে জটিলতা তৈরি করা যায় তা নিয়ে তারা গবেষণা করতে খুবই সিদ্ধহস্ত। আফসোস তারা যদি এটা না করে ভাল কাজগুলো আরও কিভাবে বেশি ভাল করা যায় সেই মানসিকতা দেখাতো তাহলে এদশের অবস্থা আজ এমন হত না। সকল কাজ গুলো আরও অনেক সুন্দর ভাবে হতে পারত।
আমলাদের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোন এক অজানা কারণে এদশের সরকার দিনের পর দিন সহ্য করে যাচ্ছেন হয়তবা ভবিষ্যতে সহ্য করবে। আর সেই কারণে এদেশের ভাল কাজগুলো কোনদিনও ভালভাবে সমাপ্ত হবে না। এদেশের ভাল কাজ গুলো সেদিনই ভালভাবে শেষ হবে যেদিন আমলাদের তাদের অন্যায়ের জন্য শাস্তির বিধান হবে।
Leave a Reply