1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিক্ষক লাঞ্চিত, সরকারের বিবেক কোথায়?

  • Update Time : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১০৯ Time View
শিক্ষক লাঞ্চিত, সরকারের বিবেক কোথায়?

বলা হয়ে থাকে একটি দেশের ভাগ্যে উন্নয়নে শিক্ষার ভুমিকা প্রধান আর এ কাজে প্রধান ভুমিকা যারা পালন করে তারা হলেন সেদেশের শিক্ষক সমাজ। আর সেই শিক্ষকদের যদি কারণে অকারণে অপমান অপদস্ত হতে হয় এমনকি তাদের শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করা হয় তাহলে তো সেদেশের সরকারের ভুমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন করাই যায়। সেদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের হাতে তাদের ভুমিকা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন করাই যায়।

দেশের ফ্যসিবাদী শক্তির বিনাশ হয়েছে তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আমরা কি তাহলে ফ্যাসিজম থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। আমরা কি এখনও একজন অন্যজনের মতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো সাংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারিনি।

শিক্ষক একটি সমাজের আলো:
শিক্ষকরা সমাজের সৃজনশীলতা এবং উন্নতির মূল স্তম্ভ। তারা জাতির ভবিষ্যৎ তৈরি করে, নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখায়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান থাকা উচিত। কিন্তু যখন কোনো শিক্ষককে শারীরিক বা মানসিক আক্রমণ করা হয়, তখন তা শুধু শিক্ষকের প্রতি অবমাননা নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য একটি বিপর্যয়।

সরকারের দায়িত্ব:
সরকারের কাজ হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা। তবে যখন সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের নিরাপত্তা বা মর্যাদার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয় না, তখন সেই সরকার তার বিবেক হারায়। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের গায়ে হাত ওঠা এবং সরকারের অসাড়া মনোভাব শুধু শিক্ষকদের জন্য, বরং পুরো জাতির জন্য অশুভ একটি সংকেত হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারের বিবেকের অবস্থা:
যখন সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু সমাধান বা প্রতিকার না আসে, তখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, সরকারের বিবেক কোথায়? এমন পরিস্থিতিতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে? যদি শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতিত হন, তবে তার সঠিক প্রতিকার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকা উচিত। যদি এসব বিষয় উপেক্ষিত হয়, তবে তা সরকারের সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাবকে ফুটিয়ে তোলে।
শিক্ষকের প্রতি সহিংসতা এবং প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:
যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটে এবং সরকার বা প্রশাসন সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দেখায়, তবে তা সামাজিক নৈতিকতা এবং মানবাধিকারের পরিপন্থী। সরকারের কর্তব্য হল শিক্ষকরা যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া।

এটি শুধুমাত্র শিক্ষকের নয়, জাতির সম্মানের প্রশ্ন:
এমন পরিস্থিতি কেবলমাত্র শিক্ষকদের জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর। সমাজের ভিতরে যখন শিক্ষকরা সম্মানিত হয় না, তখন পুরো জাতির শিক্ষার স্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং সরকারের বিবেক এখানে অন্তর্নিহিত—এটা তার দায়িত্ব, যে সকল ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

শিক্ষকেরাও কি প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠবেঃ

শিক্ষকেরা যদি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে তাহলে কি হবে? তাহলে যা ঘটবে তা হলো পাঠদানে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে? যেমনঃ যদি এমন হয় যারা শিক্ষকদের লাঞ্চনার দায়ে দায়ী তাদের সন্তানদের শিক্ষা দান থেকে বিরত থাকে তাহলে কেমন হবে।


এ ধরনের ঘটনাগুলো শুধু একটি শিক্ষককে নির্যাতন নয়, বরং জাতির বুদ্ধিজীবী এবং বিবেকবান মনোভাবের প্রতি আঘাত। সরকারের উচিত, যে কোনো পরিস্থিতিতেই শিক্ষকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং নিশ্চিত করা যে তাদের প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বা অবিচার না হয়। যদি এমন ঘটনা ঘটে এবং তার সুষ্ঠু প্রতিকার না হয়, তবে তা সরকারের বিবেকের অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme